প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫
আমাদের সন্তানদের যারা খুন করেছে - তাদের বিচার হতে হবো
ফাহাম আব্দুস সালাম, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ||
বাংলাদেশ সরকার ও আপনাদের অপরিচিত; কিন্তু নাছোড় কয়েকজন মানুষকে আমার হৃদয়ের গভীরতম “সময়” থেকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের মিলিট্ৰিকে যদি প্রফেশনাল ফোর্স হিসাবে গড়ে তুলতে হয় - প্রথম কাজ হবে এদের বিচার করা। যারা গুম-খুনের সাথে জড়িত—এদেরকে এক ইঞ্চি ছাড় দেওয়া যাবে না। জেনরেল হোক অথবা কর্নেল - কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। চাকরি থেকে বের করা কোনো বিচার না - এদেরকে জেলে যেতে হবে। যারা ডিজার্ভ করে - প্রত্যেককে গলায় দড়ি পরতে হবে। পালায় থাকুক কিন্তু বিচার শেষ হতে হবে। আশ্চর্যের বিষয় হোলো মিলিট্ৰির জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে ওভারওয়েলমিং মেজরিটি এই বিচার চায়। এই সরকার এবং আগামীতে যেই সরকারে আসুক - আপনারা যদি পুলিস ও মিলিট্ৰির খুনীদের বিচার করতে না পারেন - এই মিলিট্ৰি আপনাদেরকে খুন করবে। লিখে রাখতে পারেন। ১০০% গ্যারান্টি। ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। আপনারা যদি এদের বিচার না করেন - আজকে যে মেজর সে যখন জেনরেল হবে - আপনাদেরকে জোকার মনে করবে। আজকে আপনাদের মনে হতে পারে যে নানা রকম চালাকি করে আপনারা পার পাবেন। নেভার। রেসপেক্ট, চালাকি থেকে জন্ম নেয় না; ন্যায়বিচার থেকে জন্ম নেয়। ডোন্ট মেইক দিস মিসটেক। পুলিস ও মিলিট্ৰির কোনো কমান্ডিং অফিসার যেন ছাড় না পায়।অনেকেই আপনাদের বলবে ঠক বাছতে গাঁ উজাড় করা যাবে না। তারা সবাই ভুল। আপনি ঠক না, খুনী বাছতেছেন । এবং এক-দেড় শ অফিসার গেলে আর্মি উজাড় হবে না। কিন্তু এদেরকে বাঁচাতে গেলে আপনাদেরকে - কেউ না কেউ উজাড় করবে। বিএনপির লিডারশিপকে একটা কথাই বলতে চাই। সম্মান, অর্জন করার জিনিস এবং আপনারা যদি কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখান - আপনারা জীবনেও মিলিট্ৰির রেস্পেক্ট পাবেন না। আপনাদেরকে সেল-আউট মনে করবে। ২০২৬ এ মনে করবে না কিন্তু ২০৪০ এ মনে করবে। কেউ মনে রাখবে না যে—বাস্তবতা কী ছিলো। মনে রাখবে যে আপনারা আপোষ করেছিলেন। আমি বলছি না যে আওয়ামী লীগের হলেই তাকে সাইজ করতে হবে। বা ডিজিএফআইতে চাকরি করা মানেই অপরাধী। কিন্তু গুম-খুন একটা ডিফ্রেন্ট ক্যাটাগরি। বি ফেয়ার। কোনো অবিচার না, প্রতিশোধ না - আমরা ডিসপ্যাশোনেট বিচার দেখতে চাই। এই ২৩ জন না শুধু - আরো অনেক অফিসার আছে যাদের ওপর কমান্ড রেস্পন্সিবিলিটি বর্তায়। সবার বিচার করতে হবে। বাংলাদেশ মিলিট্ৰি কী করেছে গত ১৫ বছর - এটা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে কল্পনাও করা সম্ভব না। একজন রানার দেড় বছরের চেয়ে একটু লম্বা সময়ে ৮শ’র উপর গুমে পার্টিসিপেট করেছে। কতো যে নাম না জানা মানুষকে বিনা কারণে খুন করা হয়েছে - এর হিসাব কোনোদিনও জানা যাবে না। কারণ যাদেরকে খুন করা হয়েছে - তাদের অনেকের পরিবার জানেই না যে তাদের খুন করা হয়েছে। আমি একটা ছেলেকে চিনি যে একাই ৭০ এর উপরে খুন করেছে - এখন PTSD র রোগী। আমার ইচ্ছা আছে কোনোদিন একটা বই লেখার। আরো একটা বাস্তব কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। বহু মানুষ এমন আছে যারা এখন চুপ করে আছে - কেবলমাত্র সরকারের উপায়হীনতার কথা স্মরণে রেখে। এই অবস্থা চিরকাল থাকবে না। আগামী বছর এই সময়ে থাকবে না। কাওকে ছাড় দেয়া হলে মনে রাখবেন কেমন করে অবস্থা খারাপ করতে হয় - আমরা জানি। পোলাপাইনরা আরো ভালো জানে। গুম-খুনের সাথে জড়িত কাওকে বাঁচানো যাবে না। আমাদের সন্তানদের যারা খুন করেছে - তাদের বিচার হতে হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত