প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫
আগামী নির্বাচনে ছাত্রসমাজের হাত ধরেই ক্ষমতায় আসছে জামায়াতা
মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন, প্রকাশক ও সম্পাদক, হোপনিউজ২৪ ডটকম ||
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণ সমাজ বরাবরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক শক্তি। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি চার লাখ সাত হাজার ৯৮৬ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১ কোটির মধ্যে একটি বিশাল অংশ। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এই তরুণরাই হলো জাতির 'পালস' বা হৃদস্পন্দন। এদের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় দেশ কোন পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনে তরুণ ছাত্রসমাজের ভূমিকা নিয়ে একটি জোরালো আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।দেশের মোট ভোটারের এক-চতুর্থাংশের বেশি হলো ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ। এই সংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ, স্বপ্ন ও রাজনৈতিক সচেতনতা সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। প্রথাগত রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে গিয়ে নতুন ভাবনা ও নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর প্রবণতা এই তরুণ সমাজের মধ্যে বেশি দেখা যায়।সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন, যেমন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)—এর ফলাফল একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। আপনার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয় ছাত্র ও তরুণ সমাজের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে, যারা দেশের আনাচে-কানাচে থেকে এসেছে। এরা কোনো বিশেষ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং দেশের সামগ্রিক ছাত্র সমাজের প্রতিচ্ছবি। সমাজে উচ্চশিক্ষিত এই তরুণদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি, তাদের মতামত ও আলোচনা অনেক ক্ষেত্রে বয়োজ্যেষ্ঠদেরও প্রভাবিত করে। এই প্রেক্ষাপটে, যদি এই বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও তরুণ সমাজ আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চায় বা সংগঠকের ভূমিকা পালন করে, তবে তা নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে। আপনার মতে, ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয় অর্জন করা সেক্ষেত্রে অসম্ভব নাও হতে পারে, যা ২০২৬ সালের নির্বাচনে সম্ভবত বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।অনেকেই হয়তো ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনকে এক পাল্লায় মাপতে নারাজ। তারা যুক্তি দেন যে এই দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট। তবে আপনার মতো করে বলতে গেলে, এই বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক গোঁজামিল ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ ছাত্র সংসদগুলো কোনো 'মঙ্গল গ্রহের' নির্বাচন নয়; এটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-তরুণদের দ্বারা পরিচালিত নির্বাচন। এই ফলাফলগুলো তরুণদের মানসিকতা ও রাজনৈতিক আনুগত্যের একটি শক্তিশালী ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করে। যে শক্তি ছাত্র সমাজে শক্তিশালী, জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাবকে অস্বীকার করা অর্থ দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মনস্তত্ত্বকে উপেক্ষা করা। রাজনৈতিক গোঁজামিল দিয়ে আর যাই হোক, বাস্তবতাকে চাপা দেওয়া যায় না, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আপনার ভাষায় 'আওয়ামী জাহেলিয়াতের' পতন।সবমিলিয়ে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ছাত্রসমাজের ভূমিকা হবে কেন্দ্রীয়। তাদের সম্মিলিত রাজনৈতিক ঝোঁক এবং সাংগঠনিক তৎপরতা নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আপনার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি ছাত্র সমাজের এই প্রবণতা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জাতীয় নির্বাচনেও প্রতিফলিত হয়, তবে সরকার গঠনে এক নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হবে। যারা এই বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত মনে করছেন, আপনার মতে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। তরুণ সমাজের এই 'পালস'কে যারা যথার্থভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হবে, আগামী দিনের রাজনীতিতে তারা যে পিছিয়ে পড়বে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ২০২৬ সালের নির্বাচন তাই কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন হবে না, এটি হবে তরুণ সমাজের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার একটি প্রতিফলন।
কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত