একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাম্প্রতিক একটি গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সেই দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।পলাশবাড়ীতে জামায়াত নেতা ও ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার উল্লেখযোগ্য সময় পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মামলার প্রাথমিক এজাহারেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এরপরও তাকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।এছাড়া গ্রেফতারের আগে তার বয়োবৃদ্ধ বাবাকে তুলে আনা এবং গ্রেফতারের পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসাধীন। গ্রেফতারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।এ ধরনের ঘটনায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার বিষয়টি জড়িয়ে থাকে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। যদি অভিযোগের সত্যতা না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করা উচিত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।জনগণের প্রত্যাশা—পুলিশ হবে আস্থার প্রতীক, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা; কোনোভাবেই ভীতি বা বিতর্কের কারণ নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন সময়ের দাবি।