গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ-কালী মন্দির প্রকল্পে খোলা আকাশের নিচে ৮২ ফুটের নির্মাণাধীন রামমূর্তি অপসারণ, প্রকল্পের অর্থায়ন ও কার্যক্রমের স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে ।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে ইমাম-ওলামা পরিষদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর এলাকায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ কালী মন্দির প্রকল্পের আড়ালে রিসোর্ট বানিয়ে সেখানে ৮২ ফুটের রামমূর্তি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মন্দির কতৃপক্ষ এটিকে এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি হিসেবে দাবি করছে । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপকআলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।তিনি আরো দাবি করেন, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে বৃহৎ পরিসরের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জনস্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের উদ্যোক্তার আর্থিক সক্ষমতা, প্রকল্প ব্যয়ের উৎস, দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটির অর্থায়ন, ব্যয়ের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষা ও যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গাইবান্ধা জেলা তথা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদেকুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম ব পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাহ আলম ফয়জী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আসাদুজ্জামান আসাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ইমাম-ওলামা পরিষদের কোষাধ্যক্ষ হাফেজ মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের আগে একই দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।