Hope News

পলাশবাড়ীতে ক্লিনিক মালিক পক্ষের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!



পলাশবাড়ীতে ক্লিনিক মালিক পক্ষের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!
ফটো ক্রেডিটঃ খবরবাড়ি২৪.কম

পলাশবাড়ীতে অপরাধ ঢাকতে ক্লিনিক মালিকপক্ষের সংবাদ সম্মেলন!

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পর পলাশবাড়ীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকার' অপচেষ্টা চলছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা এবং লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ নানা গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক জনরোষ ও গণমাধ্যমের চাপ কমাতে সংবাদ সম্মেলন করে 'অপরাধ ঢাকার' চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর এই প্রচেষ্টাকে কঠোর সমালোচনা করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানাঃ
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইয়াসা রহমান তাপাদারের নেতৃত্বে পলাশবাড়ীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
তাওহীদ রহমান এর মালিকানাধীন নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডেন্টাল এন্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে জরিমানা করা হয় ১৫ হাজার টাকা।

অপর প্রতিষ্ঠানটি হলো রেজাউল করিমের মালিকানাধীন রেখা ডায়াগনস্টিক সেন্টার যাকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মূলত সঠিকভাবে লাইসেন্স নবায়ন না করা, যোগ্য চিকিৎসক ছাড়াই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন করে 'অপরাধ ঢাকার চেষ্টাঃ
অভিযানের পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই সমালোচনার মুখে, ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক এবং ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ রহমান একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তাওহীদ রহমানের এই সংবাদ সম্মেলন ছিল মূলত 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা' এবং 'অপরাধ ঢাকার চেষ্টা'। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান মালিক কিভাবে এত দ্রুত মালিক সমিতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন?
গণমাধ্যমকর্মীরা এই ধরনের গুরুতর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুরনো অভিযোগ ও ভুল চিকিৎসার গুরুতর ইতিহাসঃ

উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্ত নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর আগেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২ জুন ২০২২ সালে অনিবন্ধিত সহ নানাবিধ অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি সিল গালা করা হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে এই নিউ লাইফ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে মা-সহ নবজাতক যমজ শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল। সে সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি 'ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ধামাচাপা' দিয়েছিলো বলে অভিযোগ আছে। নিহত প্রসূতি মায়ের বাড়ী ছিল পৌরসভার বাড়াইপাড়া গ্রামে।
বারবার একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও প্রাণহানির মতো অভিযোগ ওঠার পরও কেন তারা এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

আপনার মতামত লিখুন

Hope News

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


পলাশবাড়ীতে ক্লিনিক মালিক পক্ষের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

পলাশবাড়ীতে অপরাধ ঢাকতে ক্লিনিক মালিকপক্ষের সংবাদ সম্মেলন!

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পর পলাশবাড়ীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকার' অপচেষ্টা চলছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা এবং লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ নানা গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক জনরোষ ও গণমাধ্যমের চাপ কমাতে সংবাদ সম্মেলন করে 'অপরাধ ঢাকার' চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর এই প্রচেষ্টাকে কঠোর সমালোচনা করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানাঃ
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইয়াসা রহমান তাপাদারের নেতৃত্বে পলাশবাড়ীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
তাওহীদ রহমান এর মালিকানাধীন নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডেন্টাল এন্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে জরিমানা করা হয় ১৫ হাজার টাকা।

অপর প্রতিষ্ঠানটি হলো রেজাউল করিমের মালিকানাধীন রেখা ডায়াগনস্টিক সেন্টার যাকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মূলত সঠিকভাবে লাইসেন্স নবায়ন না করা, যোগ্য চিকিৎসক ছাড়াই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন করে 'অপরাধ ঢাকার চেষ্টাঃ
অভিযানের পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই সমালোচনার মুখে, ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক এবং ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ রহমান একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তাওহীদ রহমানের এই সংবাদ সম্মেলন ছিল মূলত 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা' এবং 'অপরাধ ঢাকার চেষ্টা'। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান মালিক কিভাবে এত দ্রুত মালিক সমিতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন?
গণমাধ্যমকর্মীরা এই ধরনের গুরুতর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুরনো অভিযোগ ও ভুল চিকিৎসার গুরুতর ইতিহাসঃ

উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্ত নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর আগেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২ জুন ২০২২ সালে অনিবন্ধিত সহ নানাবিধ অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি সিল গালা করা হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে এই নিউ লাইফ ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে মা-সহ নবজাতক যমজ শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল। সে সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি 'ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ধামাচাপা' দিয়েছিলো বলে অভিযোগ আছে। নিহত প্রসূতি মায়ের বাড়ী ছিল পৌরসভার বাড়াইপাড়া গ্রামে।
বারবার একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও প্রাণহানির মতো অভিযোগ ওঠার পরও কেন তারা এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।


Hope News

সম্পাদক ও প্রকাশক- মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন
ফোন নাম্বার: 01766582144 ০১৭৬৬৫৮২১৪৪
ই-মেইল: matinmohammad86@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত