Hope News

কর্মস্থল বগুড়ায় প্রাইভেট পড়ান পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে শিক্ষক জনি সাহার পেশাগত নৈতিকতা



কর্মস্থল বগুড়ায় প্রাইভেট পড়ান পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে শিক্ষক জনি সাহার পেশাগত নৈতিকতা

বগুড়ার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক জনি কুমার সাহার বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্ব এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থল বগুড়ায় হলেও নিয়মিত পলাশবাড়ীতে এসে কোচিং বা টিউশনি করার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক কীভাবে সরকারি ডিউটি চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন?

একজন বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তার কর্মঘণ্টা নির্ধারিত থাকে দিনের শুরু থেকে বিকেল পর্যন্ত। যদি অভিযোগ অনুযায়ী জনি সাহা দুপুর ১টা বা ২টা থেকে পলাশবাড়ীতে প্রাইভেট ব্যাচ শুরু করেন, তবে গাণিতিক হিসাব বলছে তিনি বড় ধরণের ফাঁকি দিচ্ছেন।
প্রথমত, বগুড়া থেকে পলাশবাড়ীর দূরত্বঃ সড়কপথে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণ যানবাহনে অন্তত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, কর্মস্থলের ফাঁকিঃ যদি তিনি ২টায় পড়ানো শুরু করেন, তবে তাকে অন্তত দুপুর ১২টার আগেই বগুড়া ত্যাগ করতে হয়। অথচ সেই সময়টি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সময়।
এই সময়সূচী বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাঠদানের সময়টি নিজের পকেটে ভরছেন। একজন শিক্ষক যখন সরকারি বেতনভুক্ত হয়েও ক্লাসরুমের বদলে ব্যক্তিগত কোচিংকে অগ্রাধিকার দেন, তখন তাকে আর ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলা চলে কি না—সেই প্রশ্ন তোলা এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না। জনি সাহার ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা কেবল নৈতিক স্খলন নয়, বরং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধিমালায় বলা আছে,
"সরকারি বেতন গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা বা টিউশনি করা কেবল আইনত অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রের সাথে এক ধরণের প্রতারণা।"


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়ার যে খবর চাউর হয়েছে, তার মূলে রয়েছে ‘টিউশনি বাণিজ্য’। পলাশবাড়ীতে তার এই অবস্থান নিয়ে যে বিরোধ, তা মূলত পেশাগত কোনো আদর্শিক লড়াই নয়, বরং বাণিজ্যিক আধিপত্যের লড়াই বলে প্রতীয়মান হয়। একজন বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক যখন স্থানীয় পর্যায়ের টিউশনি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন, তখন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।


আজিজুল হক কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের রসায়ন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের এভাবে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পলাশবাড়ীতে এসে টিউশনি করার মোহ তাকে একজন শিক্ষক থেকে বাণিজ্যিক ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।


এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জনাব জনি কুমার সাহার রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর তরনী কান্ত বর্মার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না মর্মে জানান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি এই বিষয়ে কেনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, জনি সাহার এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বৈত ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক। তিনি কি আসলে শিক্ষার্থীদের পড়াতে চান, নাকি কেবল ব্যক্তিগত অর্থ উপার্জনের জন্য সরকারি পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন? এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।

বিষয় : জাতীয় শিক্ষক প্রাইভেট বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ জনি সাহা

আপনার মতামত লিখুন

Hope News

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কর্মস্থল বগুড়ায় প্রাইভেট পড়ান পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে শিক্ষক জনি সাহার পেশাগত নৈতিকতা

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

বগুড়ার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক জনি কুমার সাহার বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্ব এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থল বগুড়ায় হলেও নিয়মিত পলাশবাড়ীতে এসে কোচিং বা টিউশনি করার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক কীভাবে সরকারি ডিউটি চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন?

একজন বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তার কর্মঘণ্টা নির্ধারিত থাকে দিনের শুরু থেকে বিকেল পর্যন্ত। যদি অভিযোগ অনুযায়ী জনি সাহা দুপুর ১টা বা ২টা থেকে পলাশবাড়ীতে প্রাইভেট ব্যাচ শুরু করেন, তবে গাণিতিক হিসাব বলছে তিনি বড় ধরণের ফাঁকি দিচ্ছেন।
প্রথমত, বগুড়া থেকে পলাশবাড়ীর দূরত্বঃ সড়কপথে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণ যানবাহনে অন্তত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, কর্মস্থলের ফাঁকিঃ যদি তিনি ২টায় পড়ানো শুরু করেন, তবে তাকে অন্তত দুপুর ১২টার আগেই বগুড়া ত্যাগ করতে হয়। অথচ সেই সময়টি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সময়।
এই সময়সূচী বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাঠদানের সময়টি নিজের পকেটে ভরছেন। একজন শিক্ষক যখন সরকারি বেতনভুক্ত হয়েও ক্লাসরুমের বদলে ব্যক্তিগত কোচিংকে অগ্রাধিকার দেন, তখন তাকে আর ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ বলা চলে কি না—সেই প্রশ্ন তোলা এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না। জনি সাহার ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা কেবল নৈতিক স্খলন নয়, বরং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধিমালায় বলা আছে,
"সরকারি বেতন গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা বা টিউশনি করা কেবল আইনত অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রের সাথে এক ধরণের প্রতারণা।"


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়ার যে খবর চাউর হয়েছে, তার মূলে রয়েছে ‘টিউশনি বাণিজ্য’। পলাশবাড়ীতে তার এই অবস্থান নিয়ে যে বিরোধ, তা মূলত পেশাগত কোনো আদর্শিক লড়াই নয়, বরং বাণিজ্যিক আধিপত্যের লড়াই বলে প্রতীয়মান হয়। একজন বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক যখন স্থানীয় পর্যায়ের টিউশনি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন, তখন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।


আজিজুল হক কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের রসায়ন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের এভাবে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পলাশবাড়ীতে এসে টিউশনি করার মোহ তাকে একজন শিক্ষক থেকে বাণিজ্যিক ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।


এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জনাব জনি কুমার সাহার রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর তরনী কান্ত বর্মার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না মর্মে জানান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি এই বিষয়ে কেনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, জনি সাহার এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বৈত ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক। তিনি কি আসলে শিক্ষার্থীদের পড়াতে চান, নাকি কেবল ব্যক্তিগত অর্থ উপার্জনের জন্য সরকারি পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন? এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।


Hope News

সম্পাদক ও প্রকাশক- মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন
ফোন নাম্বার: 01766582144 ০১৭৬৬৫৮২১৪৪
ই-মেইল: matinmohammad86@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত