Hope News

প্লাবন মেধা মননের প্রতীক হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন



প্লাবন মেধা মননের প্রতীক হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন

আজ ১৫ই জুন ২০২৬, আজকের দিনে ২১ বছর আগে ২০০৫ সালের ১৫ই জুন আমাদের মাঝ থেকে রেজবুল হক সরকার প্লাবন হারিয়ে গেছে অসীমের পথে, কৈশোরের আলো ঝলমল দিনগুলো পেরিয়ে সবে আগামীর পথ ধরে হাঁটা শুরু করার সেই সোনাঝরা স্মৃতিকাতরতার দিনগুলোতোই হারিয়ে গিয়েছে , অকাল প্রয়াত সেই বন্ধুর জন্য এলিজি, কিছু স্মৃতি রোমন্থন, বেদনাহত বন্ধুর আক্ষেপ, প্রকৃতির অমোঘ সত্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে  অনেক কষ্ট নিয়ে। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা, এসএসসির  রেজাল্ট দিয়েছিলো ৯ই জুলাই ২০০৫, আমাদের হাইস্কুল থেকে প্লাবনসহ আমরা  পাঁচ বন্ধু এ+ পেলাম ।

 কতো নির্ঘুম রাত কাটাইছি সেই দিনটির জন্য, সেই আকাংখিত দিনটিতে আনন্দের চেয়ে বেদনার  কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছিলো হাইস্কুল মাঠের আকাশে, পিনপতন নিরবতায় , দেয়ালে টানানো রেজাল্ট শিটের সাদা কালো লেখাগুলোয় ভেসে উঠেছিল আপন জন হারানোর রুদ্ধশ্বাস বুনো হাঁসের ডানা ঝাপটা বেদনার তৈলচিত্র, রক্তজবার মতো বুভুক্ষ চাহনীর নির্লিপ্ততা একেকটা সংখ্যা,প্লাবনের এসএসসির রোল ১৩৭৬৬০ আর আমার ১৩৭৬৬১,আমি চোখ বুলাই কাগজের দিকে আশেপাশে সবাইকে দেখি কিন্তু ঝরাপাতার মতো ১৩৭৬৬০ এর কাউকে পাইনা, উপরের সিরিয়ালে মেহেদুল, মাঝখানে প্লাবন তারপরে আমি, মাঝের জনের দেখা পাইনা। আনন্দ উল্লাস আর বাধনহারা জীবনের জয়গানের পরিবর্তে আমাদের মাঝে গুমোট নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল।কারন তার ২৪ দিন আগেই প্লাবন মারা যায়। English Poet Thomas Gray এর লেখা " Elegy Written in a  Country Churchward" কবিতার একটা বিখ্যাত লাইন: "The paths of glory lead but to the grave."। কিন্তু অমোঘ সত্যের পরেও প্লাবনের এভাবে মারা যাওয়া আমরা যারা কাছের মানুষ আজও মেনে নিতে পারিনি, তার পরিবারে যে শূন্যতা , হাহাকার, বেদনাস্মৃত একটা শোকের নদী বুকের মধ্যে বয়ে চলেছে সেটা কী জীবনের দূর্বিসহ এলিজির শোকগাঁথাকে স্পষ্ট করে তোলেনা! তার জীবনের অর্জন সে দেখে যেতে পারেনাই, রেজাল্ট শিটের সেই অপেক্ষামান মানুষের ভীড় ঠেলে দুই চোখ ভরে দেখতে পারেনি তার রোলের পাশে ব্রাকেটবন্ধী [ ৫.০০]! কি নিষ্ঠুর নিয়তির ঝরা পালকের দুর্ভাগাদের একজন অকাল প্রয়াত কৈশোরের বন্ধু প্লাবন। ওর সাথে আমার জানাশোনা তিন বছরের। ওর সাথে প্রতিযোগীতা খুব উপভোগ করতাম, রচনা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতো। তার মধ্যে দুই বছর খুবই কাছাকাছি ছিলাম  কারন ক্লাস নাইনে প্লাবনের রোল ছিলো ০২ আর আমার রোল ০৩, এই কারনে ঐ বছরে  পরীক্ষায় প্লাবনের পিছনের সিটে আমি বসতাম।

 আবার ক্লাস টেনে আমার রোল হলো ০২ আর প্লাবনের ০৩, এবার পরীক্ষায় আমার সিট আগে প্লাবনের সিট পিছনে এবং এসএসসির ফাইনাল পরীক্ষায় ওর পেছনের সিটেই পরীক্ষা দেই।এভাবে ওর সাথে অনেকটা সময় কেটেছে নিরিবিলি।প্রাইভেট পড়তে কখনো দেরী হলে অথবা একটা প্রাইভেটের পর আর একটা প্রাইভেটের গ্যাপে আমি বেশিরভাগ দিন প্লাবনের বাসায় যেতাম। টিভিতে খেলা দেখতাম, আংকেল আন্টি পরম মমতায় নাস্তা খাওয়াইতো।আমরা অনেক সময় বিকল্প ক্রিকেট টিম গঠন করে হাইস্কুল মাঠে এবং পাশের মাদ্রাসা মাঠে ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট দলটার নাম দিয়েছিলাম ' অনল'।ওর একটু মাথা গরম স্বভাব ছিলো কিন্তু হৃদয়টা ছিলো নির্মল, মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, একটা শিশুসুলভ মন ছিলো প্লাবনের।সেই মাথা গরমের সময় আমি কাছে থাকলে আমি নিবৃত করতাম, আমার কথা শুনতো, পরক্ষনেই বলতো আসলে ছোটখাট বিষয় নিয়ে এতো উত্তেজিত হওয়া ঠিক হয় নি।প্লাবন খুব ছোটবেলায় ওর মাকে হারিয়েছে। আমি যাকে আন্টি বলেছি আসলে ওনি প্লাবনের খালা, ওর বাবা প্লাবনদের কথা বিবেচনা করেই ওর খালাকে বিয়ে করেছিলো। প্লাবনের আম্মা এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যায়। প্লাবনের স্বপ্ন ছিলো ভালো ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করবে, তার মায়ের সেই অজ্ঞাত দূরারোগ্য ব্যাধির সেই যন্ত্রনাদায়ক দিনগুলোর অস্পষ্ট বেদনার ময়নাতদন্ত করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ফুল থেকে ফল তারও আগে মুকুলে ঝরে গেলো আমাদের বন্ধু প্লাবন। 

আমরা এসএসসির বাকী যে চার জন থাকলাম , আমরা চারজনই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, আমাদের একজন মুন বুয়েটে,  মেহেদুল চুয়েটে , সাফী কুয়েটে আর আমি রুয়েটে ভর্তি হলাম।আমাদের এই রেকর্ড হাইস্কুলের অন্য কোন ব্যাচ আর ভাঙ্গতে পারেনি।অসম্ভব মেধাবী একজন মানুষ ছিলো,খুব অল্প সময়ে কঠিন বিষয়ে নোট লিখতে পারতো, প্রচন্ড ধৈর্য্য ছিলো, ভুল হোক অন্তত কিছু একটা হবে, খাতা ফাঁকা রাখতো না। প্লাবনও মেডিক্যালে চান্স পেতো এটা সবাই বিশ্বাস করতাম, হয়তো কোন মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে শৈশবে হারিয়ে ফেলা সেই মায়ের জন্য মানুষের দোরগড়ায় পৌছে যেতো আর্ত মানবতার সেবার ব্রত নিয়ে। আমরা হারালাম মানবিক এক মানুষকে।প্লাবনের জন্য খুব কষ্ট লাগে।কিছু বুঝে উঠার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।আজকের দিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা আল্লাহ তুমি প্লাবনকে বেহেশত নসিব করিও।প্লাবন যেখানেই থাকো ভালো থাকো।

২০১২ সালে নিচের লেখাটা লিখেছিলাম

প্লাবনের জন্য শোকগাঁথা: মনে পড়ে প্লাবনের কথা ?আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে অকালে,অসম্ভব তারুণ্যের দীপ্তিচ্ছটা ছিলো তার চোখেমুখে । প্লাবন আমার অনেক কাছের স্কুল বন্ধু ছিল । ওর সাথে তিন বছর মেশার সুযোগ হয়েছিল। এই তিন বছরেই  ও আমার ভালো বন্ধুদের মধ্যে একজন হতে পেরেছিল। আজ প্লাবনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে সাতটি বছর পেরিয়ে গেল । এই দিনটি আসলেই আমি নস্টালজিক হয়ে যাই। স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। আমাদের মত ও এতদিনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকিয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে চলে যেত। এখনও আমাদের হাইস্কুল মাঠে আড্ডায় ওর শূন্যতা অনুভব করি। এখন মাঝে মাঝে মনে হয় প্লাবন আছে আমাদের সাথে,সত্ত্বার কাছাকাছি,নি:শ্বাসের সাথে,আমাদের আড্ডা, আমাদের বন্ধুদের মাঝে ও থাকবে চিরভাস্বর,প্লাবন যেখানেই থাকো ভালো থাকিও। প্লাবনের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। 

 All friends of 05 batch of Palashbari S.M Pailot High School are always miss you.

 পাদটীকা:সেইযুগে আমাদের হাতে ক্যামেরা ফোন ছিলোনা, এইজন্য প্লাবনের সাথে যুগল ছবি নেই। আমাদের বন্ধুদের সংগ্রহে এই একটি ছবিই আছে।প্লাবন এই ছবির মত চির সবুজ আর মেধা মননের প্রতীক হিসেবেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Hope News

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


প্লাবন মেধা মননের প্রতীক হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

আজ ১৫ই জুন ২০২৬, আজকের দিনে ২১ বছর আগে ২০০৫ সালের ১৫ই জুন আমাদের মাঝ থেকে রেজবুল হক সরকার প্লাবন হারিয়ে গেছে অসীমের পথে, কৈশোরের আলো ঝলমল দিনগুলো পেরিয়ে সবে আগামীর পথ ধরে হাঁটা শুরু করার সেই সোনাঝরা স্মৃতিকাতরতার দিনগুলোতোই হারিয়ে গিয়েছে , অকাল প্রয়াত সেই বন্ধুর জন্য এলিজি, কিছু স্মৃতি রোমন্থন, বেদনাহত বন্ধুর আক্ষেপ, প্রকৃতির অমোঘ সত্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে  অনেক কষ্ট নিয়ে। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা, এসএসসির  রেজাল্ট দিয়েছিলো ৯ই জুলাই ২০০৫, আমাদের হাইস্কুল থেকে প্লাবনসহ আমরা  পাঁচ বন্ধু এ+ পেলাম ।

 কতো নির্ঘুম রাত কাটাইছি সেই দিনটির জন্য, সেই আকাংখিত দিনটিতে আনন্দের চেয়ে বেদনার  কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছিলো হাইস্কুল মাঠের আকাশে, পিনপতন নিরবতায় , দেয়ালে টানানো রেজাল্ট শিটের সাদা কালো লেখাগুলোয় ভেসে উঠেছিল আপন জন হারানোর রুদ্ধশ্বাস বুনো হাঁসের ডানা ঝাপটা বেদনার তৈলচিত্র, রক্তজবার মতো বুভুক্ষ চাহনীর নির্লিপ্ততা একেকটা সংখ্যা,প্লাবনের এসএসসির রোল ১৩৭৬৬০ আর আমার ১৩৭৬৬১,আমি চোখ বুলাই কাগজের দিকে আশেপাশে সবাইকে দেখি কিন্তু ঝরাপাতার মতো ১৩৭৬৬০ এর কাউকে পাইনা, উপরের সিরিয়ালে মেহেদুল, মাঝখানে প্লাবন তারপরে আমি, মাঝের জনের দেখা পাইনা। আনন্দ উল্লাস আর বাধনহারা জীবনের জয়গানের পরিবর্তে আমাদের মাঝে গুমোট নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল।কারন তার ২৪ দিন আগেই প্লাবন মারা যায়। English Poet Thomas Gray এর লেখা " Elegy Written in a  Country Churchward" কবিতার একটা বিখ্যাত লাইন: "The paths of glory lead but to the grave."। কিন্তু অমোঘ সত্যের পরেও প্লাবনের এভাবে মারা যাওয়া আমরা যারা কাছের মানুষ আজও মেনে নিতে পারিনি, তার পরিবারে যে শূন্যতা , হাহাকার, বেদনাস্মৃত একটা শোকের নদী বুকের মধ্যে বয়ে চলেছে সেটা কী জীবনের দূর্বিসহ এলিজির শোকগাঁথাকে স্পষ্ট করে তোলেনা! তার জীবনের অর্জন সে দেখে যেতে পারেনাই, রেজাল্ট শিটের সেই অপেক্ষামান মানুষের ভীড় ঠেলে দুই চোখ ভরে দেখতে পারেনি তার রোলের পাশে ব্রাকেটবন্ধী [ ৫.০০]! কি নিষ্ঠুর নিয়তির ঝরা পালকের দুর্ভাগাদের একজন অকাল প্রয়াত কৈশোরের বন্ধু প্লাবন। ওর সাথে আমার জানাশোনা তিন বছরের। ওর সাথে প্রতিযোগীতা খুব উপভোগ করতাম, রচনা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতো। তার মধ্যে দুই বছর খুবই কাছাকাছি ছিলাম  কারন ক্লাস নাইনে প্লাবনের রোল ছিলো ০২ আর আমার রোল ০৩, এই কারনে ঐ বছরে  পরীক্ষায় প্লাবনের পিছনের সিটে আমি বসতাম।

 আবার ক্লাস টেনে আমার রোল হলো ০২ আর প্লাবনের ০৩, এবার পরীক্ষায় আমার সিট আগে প্লাবনের সিট পিছনে এবং এসএসসির ফাইনাল পরীক্ষায় ওর পেছনের সিটেই পরীক্ষা দেই।এভাবে ওর সাথে অনেকটা সময় কেটেছে নিরিবিলি।প্রাইভেট পড়তে কখনো দেরী হলে অথবা একটা প্রাইভেটের পর আর একটা প্রাইভেটের গ্যাপে আমি বেশিরভাগ দিন প্লাবনের বাসায় যেতাম। টিভিতে খেলা দেখতাম, আংকেল আন্টি পরম মমতায় নাস্তা খাওয়াইতো।আমরা অনেক সময় বিকল্প ক্রিকেট টিম গঠন করে হাইস্কুল মাঠে এবং পাশের মাদ্রাসা মাঠে ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট দলটার নাম দিয়েছিলাম ' অনল'।ওর একটু মাথা গরম স্বভাব ছিলো কিন্তু হৃদয়টা ছিলো নির্মল, মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, একটা শিশুসুলভ মন ছিলো প্লাবনের।সেই মাথা গরমের সময় আমি কাছে থাকলে আমি নিবৃত করতাম, আমার কথা শুনতো, পরক্ষনেই বলতো আসলে ছোটখাট বিষয় নিয়ে এতো উত্তেজিত হওয়া ঠিক হয় নি।প্লাবন খুব ছোটবেলায় ওর মাকে হারিয়েছে। আমি যাকে আন্টি বলেছি আসলে ওনি প্লাবনের খালা, ওর বাবা প্লাবনদের কথা বিবেচনা করেই ওর খালাকে বিয়ে করেছিলো। প্লাবনের আম্মা এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যায়। প্লাবনের স্বপ্ন ছিলো ভালো ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করবে, তার মায়ের সেই অজ্ঞাত দূরারোগ্য ব্যাধির সেই যন্ত্রনাদায়ক দিনগুলোর অস্পষ্ট বেদনার ময়নাতদন্ত করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ফুল থেকে ফল তারও আগে মুকুলে ঝরে গেলো আমাদের বন্ধু প্লাবন। 

আমরা এসএসসির বাকী যে চার জন থাকলাম , আমরা চারজনই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, আমাদের একজন মুন বুয়েটে,  মেহেদুল চুয়েটে , সাফী কুয়েটে আর আমি রুয়েটে ভর্তি হলাম।আমাদের এই রেকর্ড হাইস্কুলের অন্য কোন ব্যাচ আর ভাঙ্গতে পারেনি।অসম্ভব মেধাবী একজন মানুষ ছিলো,খুব অল্প সময়ে কঠিন বিষয়ে নোট লিখতে পারতো, প্রচন্ড ধৈর্য্য ছিলো, ভুল হোক অন্তত কিছু একটা হবে, খাতা ফাঁকা রাখতো না। প্লাবনও মেডিক্যালে চান্স পেতো এটা সবাই বিশ্বাস করতাম, হয়তো কোন মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে শৈশবে হারিয়ে ফেলা সেই মায়ের জন্য মানুষের দোরগড়ায় পৌছে যেতো আর্ত মানবতার সেবার ব্রত নিয়ে। আমরা হারালাম মানবিক এক মানুষকে।প্লাবনের জন্য খুব কষ্ট লাগে।কিছু বুঝে উঠার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।আজকের দিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা আল্লাহ তুমি প্লাবনকে বেহেশত নসিব করিও।প্লাবন যেখানেই থাকো ভালো থাকো।

২০১২ সালে নিচের লেখাটা লিখেছিলাম

প্লাবনের জন্য শোকগাঁথা: মনে পড়ে প্লাবনের কথা ?আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে অকালে,অসম্ভব তারুণ্যের দীপ্তিচ্ছটা ছিলো তার চোখেমুখে । প্লাবন আমার অনেক কাছের স্কুল বন্ধু ছিল । ওর সাথে তিন বছর মেশার সুযোগ হয়েছিল। এই তিন বছরেই  ও আমার ভালো বন্ধুদের মধ্যে একজন হতে পেরেছিল। আজ প্লাবনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে সাতটি বছর পেরিয়ে গেল । এই দিনটি আসলেই আমি নস্টালজিক হয়ে যাই। স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। আমাদের মত ও এতদিনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকিয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে চলে যেত। এখনও আমাদের হাইস্কুল মাঠে আড্ডায় ওর শূন্যতা অনুভব করি। এখন মাঝে মাঝে মনে হয় প্লাবন আছে আমাদের সাথে,সত্ত্বার কাছাকাছি,নি:শ্বাসের সাথে,আমাদের আড্ডা, আমাদের বন্ধুদের মাঝে ও থাকবে চিরভাস্বর,প্লাবন যেখানেই থাকো ভালো থাকিও। প্লাবনের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। 

 All friends of 05 batch of Palashbari S.M Pailot High School are always miss you.

 পাদটীকা:সেইযুগে আমাদের হাতে ক্যামেরা ফোন ছিলোনা, এইজন্য প্লাবনের সাথে যুগল ছবি নেই। আমাদের বন্ধুদের সংগ্রহে এই একটি ছবিই আছে।প্লাবন এই ছবির মত চির সবুজ আর মেধা মননের প্রতীক হিসেবেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।


Hope News

সম্পাদক ও প্রকাশক- মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন
ফোন নাম্বার: 01766582144 ০১৭৬৬৫৮২১৪৪
ই-মেইল: matinmohammad86@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত