Hope News

হেরে গিয়ে বার বার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে ছাত্রদল



হেরে গিয়ে বার বার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে ছাত্রদল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে যখন চলছে প্রতীক্ষিত গণনা, তখন ছাত্রদল কর্তৃক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেন দেশের পুরনো রাজনৈতিক প্রবাদকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল: 'সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি'। অর্থাৎ, জয়ী হলে নির্বাচন হয় সুষ্ঠু ও প্রশংসনীয়; আর পরাজিত হলেই শুরু হয় কারচুপি, প্রহসন ও প্রক্রিয়া ধ্বংসের অভিযোগ। এই অসুস্থ সংস্কৃতি কেবল চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, এটি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের প্রতিটি স্তর থেকে স্থানীয় নির্বাচন পর্যন্ত এক গভীর অনাস্থার জন্ম দিয়েছে।

বস্তুত, এই 'অনাস্থা' আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকেই ক্ষয় করে দিচ্ছে। ফলাফল মেনে না নেওয়ার মানসিকতা এবং পরাজয়ের আগেই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা—এগুলোই সামগ্রিকভাবে দেশের নির্বাচনী কাঠামোকে দুর্বল করেছে। রাজনীতিতে 'অনাস্থা' এখন একটি নেতিবাচক চিন্তা হিসেবে আমাদের মননে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, কোনো নির্বাচন শেষ হলেই স্বাভাবিকভাবে একটি বড় অংশের প্রশ্ন তোলা নিশ্চিত থাকে।

আলোচ্য চাকসু নির্বাচনেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। বিএনপির ছাত্রসংগঠনের প্রতিপক্ষের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। এই প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির-এর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত—তাদের সাংগঠনিক আদর্শ এবং কার্যক্রম নিয়ে ভিন্ন মত বা সমালোচনা থাকতে পারে, তবে অন্য কারো অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নজির দুষ্প্রাপ্য।

এমন পরিস্থিতিতে, তাদের বিরুদ্ধেও কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। এটি কেবল একটি ছাত্রসংগঠনকে হেয় করার প্রয়াস নয়, বরং পুরো ছাত্ররাজনীতির সুস্থ পরিবেশকে কলঙ্কিত করে।
নির্বাচন মানেই জয়-পরাজয়। কিন্তু এই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে একটি জাতিকে বারবার অনাস্থা ও সন্দেহের মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। এই সংস্কৃতি আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে। রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলোর উচিত, ফল যা-ই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বারবার আস্থা নষ্ট করা লজ্জাজনক। এই পুরনো প্রবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে, দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি কখনোই তার স্বাভাবিক গতি ও মর্যাদা ফিরে পাবে না।

আপনার মতামত লিখুন

Hope News

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


হেরে গিয়ে বার বার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে ছাত্রদল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে যখন চলছে প্রতীক্ষিত গণনা, তখন ছাত্রদল কর্তৃক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেন দেশের পুরনো রাজনৈতিক প্রবাদকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল: 'সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি'। অর্থাৎ, জয়ী হলে নির্বাচন হয় সুষ্ঠু ও প্রশংসনীয়; আর পরাজিত হলেই শুরু হয় কারচুপি, প্রহসন ও প্রক্রিয়া ধ্বংসের অভিযোগ। এই অসুস্থ সংস্কৃতি কেবল চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, এটি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের প্রতিটি স্তর থেকে স্থানীয় নির্বাচন পর্যন্ত এক গভীর অনাস্থার জন্ম দিয়েছে।

বস্তুত, এই 'অনাস্থা' আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকেই ক্ষয় করে দিচ্ছে। ফলাফল মেনে না নেওয়ার মানসিকতা এবং পরাজয়ের আগেই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা—এগুলোই সামগ্রিকভাবে দেশের নির্বাচনী কাঠামোকে দুর্বল করেছে। রাজনীতিতে 'অনাস্থা' এখন একটি নেতিবাচক চিন্তা হিসেবে আমাদের মননে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, কোনো নির্বাচন শেষ হলেই স্বাভাবিকভাবে একটি বড় অংশের প্রশ্ন তোলা নিশ্চিত থাকে।

আলোচ্য চাকসু নির্বাচনেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। বিএনপির ছাত্রসংগঠনের প্রতিপক্ষের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। এই প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির-এর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত—তাদের সাংগঠনিক আদর্শ এবং কার্যক্রম নিয়ে ভিন্ন মত বা সমালোচনা থাকতে পারে, তবে অন্য কারো অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নজির দুষ্প্রাপ্য।

এমন পরিস্থিতিতে, তাদের বিরুদ্ধেও কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। এটি কেবল একটি ছাত্রসংগঠনকে হেয় করার প্রয়াস নয়, বরং পুরো ছাত্ররাজনীতির সুস্থ পরিবেশকে কলঙ্কিত করে।
নির্বাচন মানেই জয়-পরাজয়। কিন্তু এই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে একটি জাতিকে বারবার অনাস্থা ও সন্দেহের মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। এই সংস্কৃতি আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে। রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলোর উচিত, ফল যা-ই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বারবার আস্থা নষ্ট করা লজ্জাজনক। এই পুরনো প্রবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে, দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি কখনোই তার স্বাভাবিক গতি ও মর্যাদা ফিরে পাবে না।


Hope News

সম্পাদক ও প্রকাশক- মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন
ফোন নাম্বার: 01766582144 ০১৭৬৬৫৮২১৪৪
ই-মেইল: matinmohammad86@gmail.com

কপিরাইট © ২০২৬ Hope News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত